দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে এবার খোলা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান। বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিএনপি নেতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেবে। এর আগে একই দিন সকালে দক্ষিণ প্লাজায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই দিন পর থেকেই শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে প্রস্তুতি শুরু করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়। শনিবার রাতে সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা জানান, সকালে সংসদ সদস্যদের এবং বিকেলে নতুন সরকারের শপথ—দুটি আয়োজনই দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে।
এবারের নির্বাচনে বিএনপি ২০৯ আসনে জয়ী হয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তাদের এক সময়ের মিত্র জামায়াতে ইসলামী ৬৮ আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সংসদে বসতে যাচ্ছে। অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বাকি আসনগুলোতে জয় পেয়েছেন।

সাধারণত রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে নতুন সরকারের শপথ পড়ান। তবে স্থান পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত হলেও রাষ্ট্রপতি শপথ পড়াবেন কি না—এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নতুন রাজনৈতিক বার্তা বহন করতে পারে।
চব্বিশের আন্দোলনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার বঙ্গভবনেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ নিয়েছিল। ফলে এবার ভেন্যু পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
এরই মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব আব্দুর রশীদকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বঙ্গভবনের পক্ষ থেকেই দক্ষিণ প্লাজায় শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।
সংসদ সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন, তা নিয়েও আলোচনা রয়েছে। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ও ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু দায়িত্বে অনুপস্থিত থাকায় সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নিয়ে কিছু প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সংবিধান অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াতে পারেন।
সংসদ সদস্যদের শপথের পর সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সংসদীয় বৈঠকে নেতা নির্বাচন করা হবে। এরপর সেই নেতা রাষ্ট্রপতির কাছে সরকার গঠনের দাবি জানাবেন। রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণের পরই নতুন মন্ত্রিসভা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেবে।
উল্লেখ্য, সংবিধান অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ নেওয়ার বিধান রয়েছে। নির্বাচন কমিশন শুক্রবার রাতে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টির গেজেট প্রকাশ করেছে। ফলে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই শপথ সম্পন্ন করতে জোর প্রস্তুতি চলছে।