বিশেষ পরিস্থিতিতে ভারতে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখানে থাকবেন কি না—এ সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত—এমন মন্তব্য করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর। আজ শনিবার নয়াদিল্লিতে হিন্দুস্তান টাইমস লিডারশিপ সামিটে এনডিটিভির সিইও ও প্রধান সম্পাদক রাহুল কানওয়ালের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশে ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। আন্দোলন দমনে হত্যাকাণ্ডসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গত মাসে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানালেও ভারত কোনো সাড়া দেয়নি।
জয়শঙ্কর বলেন, “তিনি (শেখ হাসিনা) একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে এখানে এসেছিলেন। সেই পরিস্থিতিরই প্রভাব রয়েছে তাঁর এখানে অবস্থানের ওপর। তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত তাঁকেই নিতে হবে।”
সামিটে বাংলাদেশের সঙ্গে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েন নিয়েও কথা বলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন একটি বিশ্বাসযোগ্য গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তার মুখোমুখি। অতীতের নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় জনগণ, বিশেষত বর্তমান ক্ষমতাসীনদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জয়শঙ্কর বলেন, “যদি সমস্যা নির্বাচন হয়, তাহলে প্রথম কাজ হবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি হলে দুই দেশের সম্পর্ক আবারও স্বাভাবিক ধারায় ফিরবে।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, “আমরা বাংলাদেশের মঙ্গল কামনা করি। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটুক—এটাই আশা। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যে–ই আসুক, দুই দেশের সম্পর্ক ভারসাম্যপূর্ণ ও পরিপক্ব থাকবে।”
শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং দুই দেশের সম্পর্ক—সব মিলিয়ে বিষয়টি দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।