আইপিএল নিলামের ইতিহাসে বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন এক অধ্যায় রচনা করলেন বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। এবারের নিলামে তাঁকে দলে নিতে কলকাতা নাইট রাইডার্স খরচ করেছে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। আইপিএল নিলামে কোনো বাংলাদেশি ক্রিকেটারের জন্য এটাই সর্বোচ্চ মূল্য।
এত বড় অঙ্কের দাম মুস্তাফিজ নিজেও হয়তো কল্পনা করেননি। কারণ, এর আগে আইপিএলে তাঁর সর্বোচ্চ মূল্য ছিল ২ কোটি ২০ লাখ রুপি, ২০১৮ সালে—যখন তাঁকে দলে নেয় মুম্বাই ইন্ডিয়ানস। ভাগ্যের খেলায় এবারের নিলাম মুস্তাফিজের জন্য হয়ে উঠল স্মরণীয়।
এবারের নিলামে বাংলাদেশের সাতজন ক্রিকেটার থাকলেও মুস্তাফিজের দল পাওয়া নিয়ে খুব একটা সংশয় ছিল না। আইপিএলে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও কার্যকারিতাই তাঁর বড় শক্তি। আট মৌসুমে ৬০ ম্যাচ খেলে ৬৫ উইকেট নেওয়া এই পেসার বিশেষ করে ডেথ ওভারে বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর বোলার হিসেবেই পরিচিত।

তবে চমকটা এসেছে দামের অঙ্কে। ক্যারিয়ারের সেরা সময়েও মুস্তাফিজ এত দাম পাননি। এমনকি ২০১৬ সালে তাঁর কাটার যখন পুরো ক্রিকেটবিশ্বে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল, তখনো নিলামের টেবিলে এমন কাড়াকাড়ি হয়নি।
২০১৬ সালে প্রথমবার আইপিএল খেলতে গিয়ে ১ কোটি ৪০ লাখ রুপিতে সানরাইজার্স হায়দরাবাদে যোগ দেন মুস্তাফিজ। সেই মৌসুমেই ১৬ ম্যাচে ১৭ উইকেট নিয়ে হায়দরাবাদের শিরোপা জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। ওভারপ্রতি রান খরচ করেন মাত্র ৬.৯০। সেই পারফরম্যান্সের সুবাদে আইপিএলের ‘সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়’ পুরস্কারও জেতেন—যা আজও কোনো বিদেশি ক্রিকেটারের ভাগ্যে জোটেনি।
২০১৮ সালে ২ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসে যান মুস্তাফিজ। এরপর ২০২১ সালে রাজস্থান রয়্যালস তাঁকে দলে নেয় ১ কোটি রুপিতে। ২০২২ ও ২০২৩ সালে দিল্লি ক্যাপিটালস এবং ২০২৪ সালে চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে খেলেন তিনি। ২০২৫ মৌসুমে মূল নিলামে দল না পেলেও পরে দিল্লি তাঁকে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে দলে নেয়।

পারফরম্যান্সের দিক থেকে প্রথম মৌসুমের মতো প্রভাব আর কখনোই পুরোপুরি ফেলতে পারেননি মুস্তাফিজ। দুই মৌসুমে সর্বোচ্চ ১৪টি করে উইকেট পেয়েছেন। সর্বশেষ আইপিএলে তিন ম্যাচে তাঁর শিকার ছিল চার উইকেট। ফলে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, নিলামের বাজারে তাঁর কদর বুঝি কমে গেছে।
কিন্তু এবারের নিলাম সেই ধারণাকেই ভুল প্রমাণ করল। ২ কোটি রুপি ভিত্তিমূল্যের মুস্তাফিজকে পেতে চেন্নাই সুপার কিংস ও কলকাতা নাইট রাইডার্সের মধ্যে তুমুল লড়াই হয়। শেষ পর্যন্ত ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে তাঁকে দলে নেয় কলকাতা।
এর আগে ২০০৯ সালে মাশরাফি বিন মুর্তজাকে ৬ লাখ ডলারে কিনেছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স—যা বর্তমান বিনিময়মূল্যে প্রায় ৫ কোটি ৪৫ লাখ রুপি। মুস্তাফিজ সেই রেকর্ডও ছাপিয়ে গেলেন।
এর আগে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, মুম্বাই ইন্ডিয়ানস, রাজস্থান রয়্যালস, দিল্লি ক্যাপিটালস ও চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে খেলেছেন মুস্তাফিজ। এবারের আসরে কলকাতা নাইট রাইডার্স হতে যাচ্ছে আইপিএলে তাঁর ষষ্ঠ দল—আর সঙ্গে থাকছে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে দামি আইপিএল স্বপ্ন।