রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য সরকার ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ (ভিভিআইপি) পর্যায়ের নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই হাসপাতাল এলাকায় হঠাৎ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
সোমবার দিবাগত রাত থেকেই হাসপাতালের সামনে ব্যারিকেড বসানো এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
বিএনপির একাধিক উচ্চপর্যায়ের সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে খালেদা জিয়াকে বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতিও সম্পন্ন। ধারণা করা হচ্ছে, মঙ্গলবারের মধ্যেই এ বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য আসতে পারে।
হঠাৎ করে বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়টি বিএনপির ভেতরেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও দলটির কোনো নেতাই এ সিদ্ধান্তের সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে পারেননি। বিএনপির একটি সূত্রের মতে, সরকার বিএনপিকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে এমন পদক্ষেপ নিতে পারে।
সোমবার দিবাগত রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে বের হন। রাতেই অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি খালেদা জিয়ার সিসিইউতে যান। দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, খালেদা জিয়া মহাসচিবের সঙ্গে স্বল্প সময়ের জন্য কথা বলেছেন।
এর আগে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, খালেদা জিয়া চিকিৎসকদের দেওয়া ওষুধে সাড়া দিচ্ছেন। তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জানানো হয় যে তার শারীরিক অবস্থা মোটেই ভালো নয়। বৈঠকে আসন্ন নির্বাচনের প্রচারণার প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা হয়।
তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না—এ প্রশ্নে স্থায়ী কমিটির নেতারা স্পষ্ট জবাব দেননি। যদিও দলীয় সূত্র বলছে, চলতি মাসের প্রথম দিকেই তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারেন এবং এ বিষয়ে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। বৈঠক শেষে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদও বলেন, “তারেক রহমান শিগগিরই ফিরবেন।”