ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাসনিম জারা। এ লক্ষ্যে আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী ভোটারদের সমর্থনযুক্ত স্বাক্ষর সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
এক ফেসবুক পোস্টে তাসনিম জারা জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে হলে ঢাকা-৯ আসনের অন্তত ৪ হাজার ৬৯৩ জন ভোটারের স্বাক্ষর নির্ধারিত ফরমে জমা দিতে হবে। তিনি বলেন, আগামীকাল থেকেই এই স্বাক্ষর সংগ্রহের কাজ শুরু করা হবে। তবে এক দিনে এত বিপুল সংখ্যক স্বাক্ষর সংগ্রহ করা প্রায় অসম্ভব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি ভোটার ও সমর্থকদের সহযোগিতা চেয়ে বলেন, যারা বসার জায়গা দিয়ে সহায়তা করতে চান বা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতে আগ্রহী, তারা একটি নির্দিষ্ট ফেসবুক গ্রুপে যুক্ত হলে প্রয়োজনীয় স্থান ও লোকেশন জানিয়ে দেওয়া হবে।
একই সঙ্গে তাসনিম জারা জানান, আগে নির্বাচনি ফান্ডরেইজিংয়ের সময় যারা আর্থিক অনুদান দিয়েছেন, তাঁর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিবর্তিত সিদ্ধান্তের কারণে কেউ চাইলে সেই অর্থ ফেরত নিতে পারবেন। বিকাশের মাধ্যমে অর্থ পাঠানো ব্যক্তিদের জন্য একটি নির্দিষ্ট ফরম পূরণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে টাকা ফেরত দেওয়া হবে বলে তিনি জানান। ব্যাংকের মাধ্যমে অনুদান দেওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও শিগগিরই প্রক্রিয়া জানানো হবে।
এদিকে তাসনিম জারার পদত্যাগের ঘোষণার রাতেই জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার ফেসবুক পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন লিখেছেন, “আমরা লড়াই ছাড়ব না। আল্লাহ সহায়।”
যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতু লিখেছেন, “চাটুকারিতা ও দালালি যেভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, তাতে স্পষ্ট—সচেতন না হলে দমন-পীড়নের দিন আবার ফিরে আসবে।”
আর যুগ্ম সদস্য সচিব নুসরাত তাবাসসুমের পোস্টে বলা হয়, “নীতির চাইতে রাজনীতি বড় না। কমিটমেন্ট ইজ কমিটমেন্ট।”
উল্লেখ্য, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আসন সমঝোতা বা সম্ভাব্য জোট গঠনের বিষয়ে আপত্তি তোলা এনসিপির ৩০ জন নেতার তালিকায় নুসরাত তাবাসসুমের নাম রয়েছে। এই ইস্যু ঘিরে দলটির ভেতরে মতপার্থক্য ও অস্থিরতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।