পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্লট গ্রহণের অভিযোগে সাবেক স্বৈরশাসক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহেনা এবং ভাগ্নি ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে আজ সোমবার (১ ডিসেম্বর)। রায়ে টিউলিপ সিদ্দিককে ২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
৪৩ বছর বয়সি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল— শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি তার মা, ভাই ও বোনকে অনিয়মের মাধ্যমে প্লট পাইয়ে দেন। এ ছাড়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প থেকে ৪ বিলিয়ন পাউন্ড আত্মসাতের অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়, যা প্রথম প্রকাশ্যে আনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল। অভিযোগ সামনে আসার পর তিনি সিটি মিনিস্টারের পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন।
ডেইলি মেইল জানিয়েছে, দুর্নীতির অভিযোগে দীর্ঘমেয়াদি সাজা হলে টিউলিপের ওপর ব্রিটিশ এমপি পদ ছাড়ার চাপ আরও বেড়ে যেতে পারে। গত ডিসেম্বরে রূপপুর প্রকল্পসংক্রান্ত অভিযোগ উত্থাপনের সময়ও তিনি একই ধরনের চাপের মুখে পড়েছিলেন। যদিও মন্ত্রিত্ব হারালেও এমপি পদ তখন ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যের হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড হাইগেটের এমপি।

রূপপুর প্রকল্পের তদন্ত চলার মধ্যেই যুক্তরাজ্যে একটি ফ্ল্যাট কেনা নিয়ে টিউলিপের দেওয়া তথ্য নিয়েও বিতর্ক ওঠে। তিনি দাবি করেছিলেন— ফ্ল্যাটটি বাবা-মায়ের কাছ থেকে পাওয়া। পরে অভিযোগ ওঠে, এটি আসলে আওয়ামীপন্থি এক নেতার উপহার, যা ঘুষ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে ব্রিটিশ সরকারের অভ্যন্তরীণ তদন্তে বলা হয়— ফ্ল্যাট সংক্রান্ত তথ্য গোপন বা বিভ্রান্তির মাধ্যমে তিনি মন্ত্রিত্বের বিধি লঙ্ঘন করেননি।
এদিকে মামলার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন ব্রিটিশ আইনজীবী। তাদের অভিযোগ— মামলাটি পরিচালনা ও তদন্ত–প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে। এ বিষয়ে তারা বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠিও পাঠিয়েছেন।