বিএনপি নাকি জামায়াত—কার নেতৃত্বাধীন জোটে যাবে এনসিপি, তা নিয়ে দলটির অভ্যন্তরে তীব্র টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। নেতৃত্ব ও কর্মপর্যায়ে বিভাজন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে দলের ভবিষ্যৎ জোট–রাজনীতি এক অনিশ্চিত অবস্থার দিকে যাচ্ছে।
দলটির দুই ছাত্র উপদেষ্টা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিএনপির সঙ্গে জোট না হলে তারা এনসিপিতে থাকছেন না। সে ক্ষেত্রে তাদের সামনে দুই পথ—সরাসরি বিএনপিতে যোগ দেওয়া কিংবা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া। তবে স্বতন্ত্র নির্বাচন করলে বিএনপির সমর্থন পাওয়ার নিশ্চয়তা না থাকায় তারা দোটানায় রয়েছেন।
এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যেও মতপার্থক্য প্রকট।
যারা বিএনপির কাছ থেকে সংসদীয় আসনের প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন, তারা বিএনপির সঙ্গে জোটে যেতে আগ্রহী। বিএনপি এনসিপিকে ৫ থেকে ৮টি আসন ছাড়তে পারে বলেও জানা গেছে।

অন্যদিকে, বাকি নেতাদের বড় একটি অংশ জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতায় বেশি আগ্রহী। তাদের যুক্তি—জামায়াত ৪০–৫০টি আসন পর্যন্ত ছাড়তে পারে, যা রাজনৈতিকভাবে এনসিপিকে আরও সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যাবে।
এদিকে এনসিপি, এবি পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ও আপ বাংলাদেশকে নিয়ে একটি নতুন জোট গঠনের উদ্যোগও কার্যত ভেস্তে গেছে। ফলে এনসিপির সিদ্ধান্তহীনতা আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
দলটি কোন দিকে যাবে—বিএনপির জোটে নাকি জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতায়—তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক দিনের অভ্যন্তরীণ বৈঠক ও আলোচনার ওপর।