অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহ্যবাহী ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ বিগ ব্যাশে অভিষেক মৌসুমেই বল হাতে নিজের জাত চেনাচ্ছেন বাংলাদেশের লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। হোবার্ট হারিকেন্সের হয়ে খেলতে নামা এই তরুণ স্পিনার পার্থ স্কর্চার্সের বিপক্ষে দুর্দান্ত বোলিং করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
গত শুক্রবার পার্থের বিপক্ষে ম্যাচে রিশাদ ৪ ওভার বল করে ৩৩ রান দিয়ে নেন ৩টি মূল্যবান উইকেট। এটি এখন পর্যন্ত বিগ ব্যাশে তাঁর সেরা বোলিং ফিগার। তাঁর নিয়ন্ত্রিত ও বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং পার্থের ইনিংসকে ১৫০ রানের মধ্যেই আটকে রাখতে বড় ভূমিকা রাখে।

এই পারফরম্যান্সের পর রিশাদকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন সতীর্থ ও অস্ট্রেলিয়ার বিধ্বংসী ব্যাটার টিম ডেভিড। ম্যাচসেরা ডেভিড বলেন, প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে খেলতে এসে রিশাদ যেভাবে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন, তা সত্যিই বিস্ময়কর। তাঁর মতে, বাউন্ডারি ছোট হলেও রিশাদের হাতে বল তুলে দিতে অধিনায়কের কোনো দ্বিধা থাকে না, কারণ তিনি ব্যাটারদের দুর্বলতা বুঝে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে বল করেন।
ডেভিড আরও বলেন, রিশাদের মধ্যে এমন কিছু বিশেষ গুণ রয়েছে, যা তাকে বর্তমান সময়ের অন্য লেগ স্পিনারদের থেকে আলাদা করে তুলেছে।
চলতি আসরে এখন পর্যন্ত ৪ ম্যাচে ৬ উইকেট নিয়ে রিশাদ যৌথভাবে চতুর্থ সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির তালিকায় রয়েছেন। বিগ ব্যাশের ইতিহাসে দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে তাঁর এই সাফল্য ইতিমধ্যে নজর কেড়েছে। এর আগে ২০১৩–১৪ ও ২০১৪–১৫ মৌসুমে সাকিব আল হাসান অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স ও মেলবোর্ন রেনেগেডসের হয়ে ৬ ম্যাচে নিয়েছিলেন ৯টি উইকেট।
সাকিবের সেই রেকর্ড ছুঁতে রিশাদের প্রয়োজন আর মাত্র ৪টি উইকেট। তবে রিশাদের লক্ষ্য আরও বড়—চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির মুকুট জেতা। ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে খুব দ্রুতই তিনি সাকিবের কীর্তিকে ছাড়িয়ে যাবেন বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।

পার্থ স্কর্চার্সকে ৪ উইকেটে হারিয়ে হোবার্ট হারিকেন্স পয়েন্ট তালিকায় ভালো অবস্থানে রয়েছে। এই ম্যাচে ব্যাটিং করার সুযোগ না পেলেও রিশাদের পরিপক্ব বোলিং দলের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।
আগামী ২৯ ডিসেম্বর মেলবোর্ন রেনেগেডসের বিপক্ষে হোবার্টের পরবর্তী ম্যাচে আবারও রিশাদের ঘূর্ণি দেখার অপেক্ষায় থাকবেন সমর্থকেরা। অস্ট্রেলিয়ার দ্রুতগতির ও বাউন্সি উইকেটে তাঁর এই সাফল্য ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও বাংলাদেশের লেগ স্পিন আক্রমণের নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।