চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে আজও ঝড়ো শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিল আয়ারল্যান্ড। তবে সেই শুরু থামিয়ে দিয়ে নিয়ন্ত্রণ নেন বাংলাদেশের বোলাররা। বিশেষ করে এক ম্যাচ বিরতি শেষে দলে ফেরা লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন এবং কাটারে দাপট দেখানো মোস্তাফিজুর রহমান একসঙ্গে চেপে ধরেন আইরিশ ব্যাটিং লাইনআপকে।
টস জিতে আগে ব্যাটিং নিয়ে আয়ারল্যান্ড থামে মাত্র ১১৭ রানে। বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে সফল দুই বোলার ছিলেন মোস্তাফিজ ও রিশাদ—
- মোস্তাফিজ: ৩ ওভারে ১১ রান দিয়ে ৩ উইকেট
- রিশাদ: ৪ ওভারে ২১ রান ও ৩ উইকেট

দ্রুত থেমে যায় আইরিশদের শুরুর ছন্দ
প্রথম দিকের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং কিছুটা আতঙ্ক তৈরি করলেও চতুর্থ ওভারে টিম টেক্টরকে (১০ বলে ১৭) বোল্ড করে আঘাত হানে বাংলাদেশ। এরপর থেকে আর কোনো উল্লেখযোগ্য জুটি গড়তে পারেনি সফরকারীরা—তাদের সর্বোচ্চ জুটি মাত্র ২০ রান, ষষ্ঠ উইকেটে ডকরেল–ডেলানির মধ্যে।
হ্যারি টেক্টর দুর্ভাগ্যের শিকার হন—মোস্তাফিজের বলে ব্যাটে লেগে বল হাত ছুঁয়ে স্টাম্পে গিয়ে আঘাত করলে ৬ বলে ৫ রানেই ফিরে যান তিনি। লোরকান টাকার ও কার্টিস ক্যাম্পারও ব্যর্থ—টাকার ফিরেন শেখ মেহেদীর বলে, ক্যাম্পারকে গুগলিতে বোল্ড করেন রিশাদ। ৬৬ রানে ৪ উইকেট পড়ে ব্যাকফুটে চলে যায় আয়ারল্যান্ড, আর সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।
স্টার্লিং ছিলেন একমাত্র ভরসা
আয়ারল্যান্ড অধিনায়ক পল স্টার্লিং একাই প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করছিলেন। ২৭ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৩৮ রানে খেললেও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি—স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে ফিরতে হয় তাঁকে। রিশাদ তার শেষ ওভারে গ্যারেথ ডেলানিকেও তুলে নেন।
শেষ ধাক্কা দেন মোস্তাফিজ—১৮তম ওভারে পরপর তুলে নেন মার্ক অ্যাডাইয়ার ও ম্যাথু হ্যামফ্রিসকে। ইনিংসের শেষ ওভারে বেন হোয়াইটকে আউট করে আয়ারল্যান্ডকে গুটিয়ে দেন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন।
তানজিদের রেকর্ড
ফিল্ডিংয়েও বাংলাদেশ উজ্জ্বল ছিল। পাঁচটি ক্যাচ ধরেছেন তানজিদ হাসান—এক ইনিংসে আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টিতে যৌথ সর্বোচ্চ ক্যাচের রেকর্ড।
বাংলাদেশ বোলারদের শৃঙ্খলিত প্রদর্শনীতে আয়ারল্যান্ড ১১৭ রানের বেশি যেতে পারেনি—যা দলের সামনে সহজ লক্ষ্য তৈরির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।