অ্যাডিলেড টেস্টের পঞ্চম দিনে ইংল্যান্ডের গ্যালারিতে হঠাৎ করেই উৎসবের আমেজ। স্কট বোল্যান্ডের করা ৯৭তম ওভারের শেষ বলে লেগ স্টাম্পের দিকে আসা বল ফ্লিক করে চার মারেন ব্রাইডন কার্স। তাতে জয়ের লক্ষ্য নেমে আসে একশ রানের নিচে। তখন ইংল্যান্ডের হাতে তিন উইকেট। অসম্ভব সমীকরণ যেন হঠাৎ করেই সম্ভাবনার আলো দেখাতে শুরু করে।

কিন্তু সেই আশা টিকেছিল মাত্র কয়েক মিনিট। পরের ওভারে মিচেল স্টার্কের দ্বিতীয় বলেই উইকেটের পেছনে মারনাস লাবুশেনের দুর্দান্ত ক্যাচে বিদায় নেন উইল জ্যাকস। তিন ঘণ্টার প্রতিরোধ সেখানেই শেষ হয়ে যায়। এরপর দ্রুতই বাকি দুই উইকেট হারিয়ে ৩৫২ রানে গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংস।
এর ফলে অ্যাডিলেডে ৮২ রানের জয় পায় অস্ট্রেলিয়া। এই জয়ের মাধ্যমে টানা তৃতীয় টেস্ট জিতে ৫ ম্যাচের অ্যাশেজ সিরিজে ৩–০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল প্যাট কামিন্সের দল এবং কার্যত সিরিজ নিজেদের করে নিল স্বাগতিকরা। ইংল্যান্ডের জন্য সিরিজটি শেষ হয়ে গেল মাত্র ১১ দিনেই—অ্যাশেজ ইতিহাসে যা দ্বিতীয় দ্রুততম নিষ্পত্তি।
পার্থে ২ দিন ও ব্রিসবেনে ৪ দিনের মধ্যে হেরে যাওয়া ইংল্যান্ড অ্যাডিলেড টেস্টে পেয়েছিল ৪৩৫ রানের কঠিন লক্ষ্য। চতুর্থ দিনেই সেই লক্ষ্য প্রায় অসম্ভব করে ফেলে বেন স্টোকসের দল। ৬৩ ওভার ব্যাট করে ২০৭ রান তুলতেই তারা হারায় ৬ উইকেট। শেষ দিনে ভরসা ছিল কেবল লেজের ব্যাটসম্যানদের লড়াই।

পঞ্চম দিনের সকালে জেমি স্মিথ ও উইল জ্যাকস সপ্তম উইকেটে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। আগের দিন ২ রানে অপরাজিত থাকা স্মিথ ছিলেন আক্রমণাত্মক। নাথান লায়ন ও ক্যামেরন গ্রিনকে ছক্কা হাঁকিয়ে ফিফটি স্পর্শ করেন তিনি। প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্কের ওভারে টানা বাউন্ডারিও মারেন স্মিথ। তবে বড় কিছু করতে গিয়ে মিড-অনে কামিন্সের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি (৮৩ বলে ৬০ রান)।
এরপর অষ্টম উইকেটে ব্রাইডন কার্সকে নিয়ে লড়াই চালান জ্যাকস। আগের দিন ৩১ বল খেলা জ্যাকস পঞ্চম দিনে খেলেন আরও ১০৬ বল। লক্ষ্য যখন একশর নিচে, তখন স্টার্কের বলেই বিদায় নেন তিনি, করেন ৪৭ রান।
দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৩টি করে উইকেট নেন মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়ন। তবে লায়নের জন্য ম্যাচটি পুরোপুরি সুখকর ছিল না। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে প্রথম সেশনেই মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে। সিরিজের বাকি অংশে তাঁর খেলা নিয়েও দেখা দিয়েছে শঙ্কা।

চোটের উদ্বেগ বাদ দিলে অ্যাডিলেড ছাড়ছে অস্ট্রেলিয়া উৎসবের আবহেই। ২০০২–০৩ মৌসুমে স্টিভ ওয়াহর নেতৃত্বে ইংল্যান্ডকে ১১ দিনের মধ্যে অ্যাশেজ হারিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। দুই দশকের বেশি সময় পর সেই রেকর্ডে ভাগ বসাল কামিন্সের দল (যদিও প্রথম দুই টেস্টে অধিনায়কত্ব করেছিলেন স্টিভেন স্মিথ)।
সিরিজের চতুর্থ টেস্ট শুরু হবে ২৬ ডিসেম্বর, মেলবোর্নে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
অস্ট্রেলিয়া: ৩৭১ ও ৩৪৯
(ট্রাভিস হেড ১৭০, অ্যালেক্স ক্যারি ৭২; টাং ৪/৭০, কার্স ৩/৮০)
ইংল্যান্ড: ২৮৬ ও ৩৫২
(জ্যাক ক্রলি ৮৫, জেমি স্মিথ ৬০; কামিন্স ৩/৪৮, স্টার্ক ৩/৬২)
ফল: অস্ট্রেলিয়া ৮২ রানে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: অ্যালেক্স ক্যারি
সিরিজ: ৫ টেস্টে অস্ট্রেলিয়া এগিয়ে ৩–০