ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি জোরদার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির শীর্ষ পর্যায়ের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ নেতা নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। আগেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানই প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন।
এদিকে রাষ্ট্রপতি পদকে ঘিরে দলীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। পাশাপাশি অভিজ্ঞ ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠনের খসড়া চূড়ান্ত করার কাজও এগিয়ে চলছে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচিত ও অনির্বাচিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য মন্ত্রিসভা গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় থাকা নামগুলোর মধ্যে অন্যতম বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি এবারের নির্বাচনে অংশ নেননি এবং অতীতে কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করেননি। তবে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও একসময় কুয়েতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। দলীয় মহলে তাকে জিয়া পরিবারের বিশ্বস্ত ও অভিজ্ঞ নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি পদে আরেকটি আলোচিত নাম নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গ্রহণযোগ্যতা এবং দীর্ঘদিনের জনপরিচিতি তাকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এনেছে। দলীয় সূত্র বলছে, অতীতেও বিএনপি ক্ষমতায় এলে তাকে রাষ্ট্রপতি করার আলোচনা হয়েছিল।

এ ছাড়া বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান-এর নামও আলোচনায় রয়েছে। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক ভূমিকার কারণে তারা সম্ভাব্য তালিকায় আছেন বলে জানা গেছে।
অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেও কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী এবং বিশ্ববিদ্যালয়টির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক নুরুল আমিন ব্যাপারী।
দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি পদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। সেই ঘোষণার পরই সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও মন্ত্রিসভা গঠন—এই দুই সিদ্ধান্তই নতুন সরকারের নীতি-দিকনির্দেশনা ও ভারসাম্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।