বাংলাদেশে হঠাৎ পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী মালদহ ও দক্ষিণ দিনাজপুরের রপ্তানিকারকেরা। রপ্তানির আশায় দুই জেলার ব্যবসায়ীরা প্রায় ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ মজুত করেছিলেন। কিন্তু রপ্তানি স্থগিতাদেশের কারণে দীর্ঘদিন ধরে সেই পেঁয়াজ সীমান্তে পড়ে থাকায় এখন পচে যাওয়ার উপক্রম।
দু’মাস আগেও মাহদিপুর ও হিলি সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন শতাধিক ট্রাক পেঁয়াজ বাংলাদেশে প্রবেশ করত। সেই ধারাবাহিকতার ওপর ভরসা করেই মালদহের ব্যবসায়ীরা মজুত করেছিলেন প্রায় ২০ হাজার মেট্রিক টন এবং হিলির ব্যবসায়ীরা আরও ১০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ। কিন্তু রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার পর মুহূর্তেই বন্ধ হয়ে যায় সব কার্যক্রম।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মালদহ শহরের বাজারে যেখানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২০–২২ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে, সেখানে শহর থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরের মাহদিপুর সীমান্তে সেই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি মাত্র ২ রুপিতে—বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ টাকা ৭৩ পয়সা। ৫০ কেজির বস্তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০০ রুপিতে।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশি আমদানিকারকদের মৌখিক প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে তারা মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে পেঁয়াজ এনে সীমান্তে গুদামজাত করেছিলেন। কিন্তু পেঁয়াজ লোডিংয়ের আগ মুহূর্তে জানতে পারেন বাংলাদেশে আমদানি স্থগিত হয়েছে। ফলে পচে যাওয়ার ভয়ে ‘পানির দরে’ বিক্রি ছাড়া আর বিকল্প নেই।
মালদহের ব্যবসায়ী মোহম্মদ রুবেল হোসেন বলেন, “বরাত পেয়েই পেঁয়াজ এনেছিলাম। কিন্তু বন্দরে এসেই শুনলাম বাংলাদেশে আর রপ্তানি করা যাবে না। এখন লোকসান ঠেকাতে আমরা বাধ্য হয়ে অতি কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করছি।”

গত ১৬ নভেম্বর বাংলাদেশি আমদানিকারকরা রপ্তানিকারকদের কাছে একটি নোটিশ পাঠান—বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষ্টি সম্প্রসারণ বিভাগ সাময়িকভাবে ভারতের পেঁয়াজ আমদানি স্থগিত করেছে। এ নোটিশের পর থেকেই অচলাবস্থা চলছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।
ওয়েস্ট বেঙ্গল এক্সপোর্টার্স কো–অর্ডিনেশন কমিটির মহাসচিব উজ্জল সাহা জানান, “বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর নির্ভর করে বিপুল বিনিয়োগ করেছিলেন ব্যবসায়ীরা। এখন সীমান্তে প্রতি কেজি মাত্র ২ রুপিতে বিক্রি করতে হচ্ছে—এটি অকল্পনীয় ক্ষতি। দ্রুত রপ্তানি চালু না হলে অনেক রপ্তানিকারক সর্বস্বান্ত হয়ে পড়বেন।”
সীমান্তে পচে যাওয়া পেঁয়াজের পাহাড় ও ধস নামা দামের কারণে এখন রপ্তানিকারকরা চরম সংকটে—সীমান্ত খুলে দেওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছেন তারা।