অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডি সমুদ্র সৈকতে ভয়াবহ গুলিবর্ষণের ঘটনায় বাবা–ছেলে জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) অস্ট্রেলীয় পুলিশ জানায়, ৫০ বছর বয়সী বাবা ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং তাঁর ২৪ বছর বয়সী ছেলে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার উদ্দেশ্য এখনও স্পষ্ট নয়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এবিসি ও স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর খবরে নিহত ও আহত দুজনের নাম প্রকাশ করা হয়েছে—সাজিদ আক্রম (বাবা) ও নাভিদ আক্রম (ছেলে)। পুলিশ জানিয়েছে, সাজিদ আক্রম একটি গান ক্লাবের সদস্য ছিলেন এবং তাঁর কাছে দীর্ঘ আগ্নেয়াস্ত্র রাখার বৈধ লাইসেন্স ছিল।
কর্মকর্তারা রবিবারের এই ঘটনাকে লক্ষ্যভিত্তিক ইহুদিবিদ্বেষী ও সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বিবেচনা করছেন। হামলার সময় সৈকতের পাশে একটি ছোট পার্কে হনুক্কা উৎসব চলছিল, যেখানে এক হাজারের বেশি মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রচণ্ড গরমের এক সন্ধ্যায় প্রায় ১০ মিনিট ধরে গুলিবর্ষণ চলে। এতে আতঙ্কে শত শত মানুষ সৈকত ও আশপাশের রাস্তায় ছুটোছুটি শুরু করেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর অন্তত ৪০ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুইজন পুলিশ কর্মকর্তা আছেন, যাঁদের অবস্থা গুরুতর। নিহত ও আহতদের বয়স ১০ থেকে ৮৭ বছরের মধ্যে।
ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা গেছে, হামলাকারীরা সম্ভবত একটি বোল্ট-অ্যাকশন রাইফেল ও একটি শটগান ব্যবহার করছিলেন। পুলিশ জানায়, নিহত বাবা ২০১৫ সাল থেকে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সধারী ছিলেন এবং তাঁর কাছে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ছয়টি অস্ত্র ছিল।
নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের কমিশনার ম্যাল ল্যানিয়ন বলেন, “আমরা দু’জনেরই পটভূমি খতিয়ে দেখছি। এই মুহূর্তে তাদের সম্পর্কে আমাদের কাছে খুব বেশি তথ্য নেই।”
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী টনি বার্ক জানান, সাজিদ আক্রম ১৯৯৮ সালে শিক্ষার্থী ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় আসেন এবং তাঁর ছেলে নাভিদ আক্রম অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেওয়া নাগরিক।
বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ দেশ হিসেবে পরিচিত অস্ট্রেলিয়ায় গণগুলিবর্ষণের ঘটনা বিরল। প্রায় তিন দশকের মধ্যে এটি দেশটির সবচেয়ে ভয়াবহ বন্দুক সহিংসতার ঘটনা বলে বিবেচিত হচ্ছে। ১৯৯৬ সালে তাসমানিয়ার পোর্ট আর্থারে ৩৫ জন নিহত হওয়ার পর এমন ঘটনা আর দেখা যায়নি।

হামলার পর বার্লিন, লন্ডন ও নিউইয়র্কসহ বিশ্বের বিভিন্ন বড় শহরে হনুক্কা অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে আনুমানিক ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ নিজেদের ইহুদি হিসেবে পরিচয় দেন। তাঁদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সিডনির পূর্বাঞ্চলীয় উপশহর, বিশেষ করে বন্ডি এলাকায় বসবাস করেন।