ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনার পর প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদের অস্ত্র লুকানো ও সরানোর বিস্তারিত চিত্র উঠে এসেছে তদন্তে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার আগারগাঁও থেকে শুরু হয়ে নরসিংদী পর্যন্ত একাধিক ব্যক্তির হাত ঘুরে পিস্তল ও গুলি সরানো হয়েছে। এই চেইনে জড়িতদের জিজ্ঞাসাবাদে হামলার প্রস্তুতি ও অস্ত্রের গতিপথ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে।
তদন্ত–সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাদির ওপর গুলিবর্ষণের পর ফয়সাল করিম ও তার সহযোগী আলমগীর শেখ দুটি কালো ব্যাগে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও গুলি রেখে আগারগাঁওয়ে ফয়সালের বোনের বাসায় আশ্রয় নেন। পরে ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির একটি ব্যাগ—যাতে পিস্তল ও গুলি ছিল—ফয়সালের স্ত্রীর বড় ভাই ওয়াহিদ আহমেদ ওরফে সিপুর হাতে তুলে দেন।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ঘটনার দিন বিকেলে সিপু আগারগাঁও বিএনপি বস্তি এলাকায় গিয়ে ফোন করলে হুমায়ুন কবির ওই ব্যাগটি তাঁর কাছে পৌঁছে দেন। পরে সিপু ব্যাগটি নিয়ে নরসিংদীতে যান এবং সেখানে তাঁর বন্ধু মো. ফয়সালের কাছে অস্ত্রসহ ব্যাগটি রাখতে দেন।
হুমায়ুন কবির ও ওয়াহিদ আহমেদ সিপুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে র্যাব নরসিংদীর সদর উপজেলার তরুয়া এলাকার একটি বিল থেকে দুটি পিস্তল ও ৪১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। এ সময় মো. ফয়সাল নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে সোমবার আগারগাঁওয়ে ফয়সালের বোনের বাসা থেকে আরেকটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়, যেখানে দুটি ম্যাগাজিন ও ১১ রাউন্ড গুলি পাওয়া যায়।
তদন্তকারীরা মনে করছেন, উদ্ধার করা অস্ত্রগুলোর যেকোনো একটি ব্যবহার করেই হাদিকে গুলি করা হয়েছিল। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে অস্ত্রগুলোর ব্যালিস্টিক পরীক্ষা করা হবে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকায় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তরা রিকশায় থাকা শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে। তিনি ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, হামলার মূল শুটার হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিমকে শনাক্ত করা হয়েছে। মোটরসাইকেল চালক ছিলেন আলমগীর শেখ। এই দুজন অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে পালিয়েছেন বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ ও র্যাব।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ১৪ জনকে আটক ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফয়সালের বাবা-মা, স্ত্রী, শ্যালক, বান্ধবী, মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য এবং অস্ত্র লুকাতে সহায়তাকারীরা। ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির জিজ্ঞাসাবাদে ছেলেকে পালাতে সহায়তার কথা স্বীকার করেছেন বলে তদন্ত সূত্র জানিয়েছে।
ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মো. নাসিরুল ইসলাম বলেন, হামলার নেপথ্যের উদ্দেশ্য এবং অর্থের জোগানদাতা কারা—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার পূর্ণ চিত্র উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।