DORAL, FLORIDA - MARCH 09: U.S. President Donald Trump speaks to reporters during a news conference at Trump National Doral Miami on March 9, 2026 in Doral, Florida. President Trump spoke on his administration's strikes on Iran. (Photo by Roberto Schmidt/Getty Images)
মার্কিন রাজনীতিতে তরুণ ভোটারদের ভূমিকা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি তরুণ ভোটার Donald Trump-এর পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় রিপাবলিকান শিবিরে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছিল। শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ার প্রতিশ্রুতি, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর আশ্বাস এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর মতো প্রতিশ্রুতিতে অনেক তরুণ তখন আশাবাদী হয়ে উঠেছিলেন।
কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই আশাবাদ এখন অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যাচ্ছে, ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। একসময় যেখানে প্রায় অর্ধেক তরুণ তাঁর প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন, এখন সেই হার নেমে এসেছে এক-তৃতীয়াংশেরও নিচে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ অর্থনৈতিক বাস্তবতা। তরুণদের জন্য মূল্যস্ফীতি এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি, বাসস্থান ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি এবং স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তাঁদের জীবনযাত্রা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। অথচ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে এই সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের কথা বলা হয়েছিল।
অন্যদিকে, প্রশাসনের অগ্রাধিকার নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সমালোচকদের মতে, সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধানের পরিবর্তে প্রশাসন আন্তর্জাতিক সংঘাত, বাণিজ্যিক শুল্ক আরোপ এবং অন্যান্য বিতর্কিত সিদ্ধান্তে বেশি মনোযোগ দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলের দাম ও সার্বিক বাজার ব্যবস্থায়, যা শেষ পর্যন্ত তরুণদের জীবনযাত্রাকে আরও ব্যয়বহুল করে তুলেছে।

কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও হতাশার চিত্র স্পষ্ট। নতুন চাকরি সৃষ্টির গতি কমে যাওয়া এবং শিল্প খাতে চাকরি হ্রাস পাওয়ায় তরুণদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। অনেক শিক্ষিত তরুণ একাধিক চাকরির জন্য আবেদন করেও সাড়া পাচ্ছেন না—যা তাঁদের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। কলেজ টিউশন ফি বৃদ্ধি, আর্থিক সহায়তা কমানোর উদ্যোগ এবং স্বাস্থ্যবিমা নীতিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে। অনেকের আশঙ্কা, এসব নীতি কার্যকর হলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এছাড়া রাজনৈতিক আচরণ ও নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় অস্থিরতা নিয়েও তরুণদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সমীক্ষাগুলোতে আরও দেখা গেছে, অধিকাংশ তরুণ মনে করেন দেশ সঠিক পথে এগোচ্ছে না এবং তাঁদের ভবিষ্যৎ আগের প্রজন্মের তুলনায় অনিশ্চিত। এই মনোভাব রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, তরুণদের এই হতাশা আগামী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। ইতোমধ্যে Kamala Harris-সহ ডেমোক্র্যাট নেতাদের প্রতি তরুণদের আগ্রহ বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, একসময় যে প্রতিশ্রুতি তরুণদের আশা জাগিয়েছিল, এখন সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় তাদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে—মার্কিন তরুণ ভোটারদের কাছে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব ফলাফল।